এরেঞ্জ ম্যারেজ দিন দিন চ্যালেঞ্জিং হয়ে যাচ্ছে। এলাকার এই সপ্তাহের একটা ঘটনা বলি। ছেলে প্রবাস ফেরত। বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে গেলো। মেয়ে ছেলেরে স্পষ্ট কইরাই জানাইলো... ❝আমার রিলেশন আছে। আমারে বিয়ে কইরেন না।❞ পোলা খুব মনখোলা ভাব নিয়া কইলো, এসব থাকেই এই যুগে। ব্যাপার না। এই ভাব গলার হাড্ডি হইয়া আটকাইছে শেষমেষ। বিয়ে হইলো। ছেলে প্রবাসে ফেরত যাওয়ার পাঁচদিন পরেই মেয়ে প্রেমিকের সাথে পালাইছে। খালি হাতে না। মোহরানার নগদ ছয় লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিলো, সে টাকা — সাথে স্বর্ণালংকার নিয়ে। ছেলে বিদেশ গিয়ে ডিউটির ফাঁকে কলে শুনলো সে কথা — বউ পালাইছে। ছেলে এবার গলার স্বর নিচু করে বললো... ব্যাপার না। কিন্তু ব্যাপার অনেক কিছুই। বিয়ে নিয়ে সব মানুষের একটা সুন্দর স্বপ্ন থাকেই। সেটা মইরা গেলো। কুত্তার মতো কামলা দিয়া যে টাকা সে কামাই করলো। তা বিয়ের খরচে গেলো। মোহরানাতে গেলো। স্বর্ণালংকারে গেলো। কিন্তু দিনশেষে তার হাত খালি! বুক তারও বেশি খালি। তার এই নিঃসঙ্গতা যুদ্ধে একা একা মইরা যাওয়া কোনো আহত সৈনিকের নিঃসঙ্গতার মতোই। আজকাল বেশির ভাগ ছেলে মেয়েরই এখন সম্পর্ক থাকে। প্রেম ভালোবাসা করা হারাম, ধর্ম মেনে আপনি যারে বিয়ে করতে গেলেন দেখা গেলো তারও একটা অতীত আছে। সে অতীত ভুল হিসেবে পেছনে থাকলে ঠিকাছে। কিন্তু কেউ কেউ বিয়ে করে বর্তমানের সাথে থাইকা সে অতীতও ছুঁইতে চায়। তারপর ঝামেলা হয়। ডিভোর্স হয়। পরিসংখ্যান বলছে , বাংলাদেশে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে ডিভোর্সের হার ২৩%। ছেলেদের বেলায় একটা সময় আসে, পরকীয়া দেইখা বউরে সহ্য করতে পারে না, মোহরানাও দিতে পারে না। ডিভোর্স হয় না। তখন শারীরিক মানসিক দুই অশান্তিই বাড়ে। মেয়েদের বেলায় এমনটা হইলে তারা বাচ্চাকাচ্চার জন্য জামাইর খেচ্চরগিরি সহ্য কইরা যায় । বাপ মা খুব নরম কইরা বলে... কপালে আছে। একটু আধটু সহ্য করতে হয়। মেনে নে। আর শেষ পর্যন্ত না পারলে একটা সময় মেয়ে বাপের বাড়ি চইলা যায়। তখন আবার উঠতে বসতে লোকের কথা শুনতে হয়। এই দুইটাই মানসিক দোযখের আজাব দেয়। আপনি ছেলে হইলে , বিয়ে করতে গেলে মেয়েরে ফ্র্যাংকলি জিজ্ঞেস করেন... রিলেশন আছে কিনা? একটু সময় দেন, জেনে নেন, আপনারে বিয়ে করতে ইচ্ছুক কি না। অতীত থাকলেও সে আর ঐ দিকে ঝুঁকবে কিনা। এখানে রাকঢাক করবেন না। সুন্দরী হইলেই টাকার জোর দেখাইয়া বিয়ে করে নিয়েন না। আপনি প্রবাসী হইলে আরও না। নিজের বয়স ৩৫+১৬ বছর বয়সী মেয়ে বিয়ে করতে যাবেন না। পারলে বিয়েটা ২৪-২৫ বছর বয়সেই করে ফেলুন। বয়সের গ্যাপ কম রাখুন। মেয়েদের ও যদি মনে হয়। বিয়ের পরেও আপনার মানুষটার সাথে যোগাযোগ রাইখা দিবেন, তাহলে কাউরে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়েন না। দরকার নাই। আপনার মানুষরেই বিয়া করেন। একটা ছাদ। ছাদের নিচে দুইটা মানুষ এক খাটে শুইয়া থাকলেই সংসার হয় না। একটা সংসারে ঘরের মেঝেটা হবে ভরসার। দেয়াল হবে সমঝোতার। ছাদ হবে বিশ্বস্ততার। এই সমঝোতা, বিশ্বাস না থাকলে শেষে। একজন আরেকজনরে জড়াইয়া ধইরা শুয়ে থাকলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে জুনায়েদ ইভানের লিরিক বাজবে আমার দিকে তাকিয়ে সে আমারে না, অন্য কাউরে দেখতো! আমারে ধরে সে আমারে না। অন্য কাউরে ধরতো! আপনি হয়তো বলবেন... এত ঝামেলা করতে গেলে আর বিয়ে করাই লাগবে না-রে ভাই।
Love Story
Public . 25-Apr-2025এরেঞ্জ ম্যারেজ কি দিন দিন চ্যালেঞ্জিং হয়ে যাচ্ছে?