রোজ গার্ডেন বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন!

রোজ গার্ডেন বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন!

রোজ গার্ডেন প্রাসাদ যা সংক্ষেপে রোজ গার্ডেন নামে সমধিক পরিচিত, বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন। এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের টিকাটুলি এলাকায় অবস্থিত একটি অন্যতম স্থাবর ঐতিহ্য। এ প্রাচীন ভবনটি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি হিসাবে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত। বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১৯৮৯ সালে রোজ গার্ডেনকে সংরক্ষিত ভবন ঘোষণা করে। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের নিকট এটি ঢাকার অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান। রোজ গার্ডেন ১৯৭০ থেকে নাটক ও টেলিফিল্ম শুটিং স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। ১৯৪৯ সালে এই ঐতিহাসিক ভবনে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল, আওয়ামী লীগের জন্ম হয়। ঋষিকেশ দাস ছিলেন ব্রিটিশ আমলের নব্য ধনী ব্যবসায়ী। তবে সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসায় ঢাকার খানদানি পরিবারগুলো তেমন পাত্তা দিত না ঋষিকেশ দাসকে। কথিত আছে যে, একবার তিনি জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর বাগানবাড়ি বলধা গার্ডেনের এক জলসায় গিয়ে অপমানিত হয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। এরপরই তিনি রোজ গার্ডেন প্যালেস তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৩১ সালে পুরান ঢাকার ঋষিকেশ দাস রোডে একটি বাগানবাড়ি তৈরী করা হয়। বাগানে প্রচুর গোলাপ গাছ থাকায় এর নাম হয় রোজ গার্ডেন।[৩] ভবনটি সজ্জিত করণের কাজ সমাপ্ত হওয়ার আগেই ব্যবসায়ী ঋষিকেশ দাস আর্থিকভাবে দেউলিয়া হয়ে যান। ১৯৩৭ সালে তিনি রোজ গার্ডেন প্যালেসটি খান বাহাদুর আবদুর রশীদের কাছে বিক্রয় করে দিতে বাধ্য হন। প্রসাদটির নতুন নামকরণ হয় ‘রশীদ মঞ্জিল। মৌলভী কাজী আবদুর রশীদ মারা যান ১৯৪৪ সালে, তার মৃত্যুর পর রোজ গার্ডেনের মালিকানা পান তার বড় ছেলে কাজী মোহাম্মদ বশীর (হুমায়ূন সাহেব)। ১৯৭১-এ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে ১৯৭০-এ বেঙ্গল স্টুডিও ও মোশন পিকচার্স লিমিটেড রোজ গার্ডেন প্যালেসের ইজারা অব্যবহিত পূর্বে ১৯৭০-এ বেঙ্গল স্টুডিও ও মোশন পিকচার্স লিমিটেড রোজ গার্ডেন প্যালেসের ইজারা নেয়। হারানো দিন নামের জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের শুটিং এই বাড়িতে হয়েছিল। এ কারণে সে সময় ভবনটি “হুমায়ুন সাহেবের বাড়ি” হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ১৯৮৯ সালে রোজ গার্ডেনকে সংরক্ষিত ভবন হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু আদালতে মামলা করে ১৯৯৩ সালে মালিকানা স্বত্ব ফিরে পান কাজী আবদুর রশীদের মেজ ছেলে কাজী আবদুর রকীব। ১৯৯৫ সালে তার প্রয়াণ হয়। এরপর থেকে অদ্যাবধি তার স্ত্রী লায়লা রকীবের মালিকানায় রয়েছে এই ভবনটি। ২০১৮ এ বাংলাদেশ সরকার এ ভবনটি ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ দুই হাজার ৯০০ টাকা মূল্যে ক্রয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ২২ বিঘা জমির উপর স্থাপিত হয়েছিল রোজ গার্ডেন প্যালেস। ভবনটির মোট আয়তন সাত হাজার বর্গফুট। উচ্চতায় পঁয়তাল্লিশ ফুট। ছয়টি সুদৃঢ় থামের উপর এই প্রাসাদটি স্থাপিত। প্রতিটি থামে লতাপাতার কারুকাজ করা। প্রাসাদটির স্থাপত্যে করিন্থীয়-গ্রীক শৈলী অনুসরণ করা হয়েছে। এছাড়া বাগানটি সুদৃশ্য ফোয়ারা, পাথরের মূর্তি ইত্যাদি দ্বারা সজ্জিত ছিল। মূল ভবনের দ্বিতীয় তলায় পাঁচটি কামরা আর একটি বড় নাচঘর আছে। নিচতলায় আছে আটটি কামরা। রোজ গার্ডেন প্যালেসের পশ্চিম ও উত্তর দিকের দেয়ালের মধ্যবর্তী অংশে দুটি মূল ফটক আছে। প্রবেশ ও বর্হিগমনের জন্য স্থাপিত পশ্চিম দিকের ফটক দিয়ে প্রবেশ করলে প্রথমেই আছে একটি বিস্তীর্ণ খোলা প্রাঙ্গণ। এখানে মঞ্চের ওপর দণ্ডায়মান নারী মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। পূর্বাংশের মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে একটি আয়তকার পুকুর। পুকুরের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের মাঝামাঝি একটি করে বাঁধানো পাকা ঘাট আছে। এর পূর্ব দিকে আছে পশ্চিমমুখী একটি দোতলা ইমারত যার বর্তমান নাম ‘রশিদ মঞ্জিল’। রশিদ মঞ্জিলের প্রবেশপথের সামনের চত্বরে ইট ও সিমেন্ট নির্মিত একটি সুন্দর ফোয়ারা রয়েছে। একটি সাত ধাপ বিশিষ্ট সিঁড়ি দিয়ে রশিদ মঞ্জিলের প্রথম তলায় যেতে হয়। এর সামনের দিকের মাঝামাঝি অংশের প্রতি কোঠার পাশাপাশি তিনটি খিলান দরজা আছে। ওপরের তলায় প্রতিটি খিলানের ওপর একটি করে পডিয়াম আছে। টিমপেনামগুলো লতাপাতার নকশা এবংবেলজিয়ামে তৈরী রঙিন কাচ দিয়ে শোভিত। এর সামনে আছে বাইরের দিকে উপবৃত্তাকার ঝুল বারান্দা। এর দুপাশে একটি করে করিনথীয় পিলার আছে। পিলারগুলোর দুই পাশের অংশে প্রতি তলায় আছে একটি করে দরজা। এদের প্রতিটির কাঠের পাল্লার ভ্যানিশিং ব্লাইন্ড ও টিমপেনামে লতাপাতার নকশা দেখা যায় এবং সামনেই অপ্রশস্ত উন্মুক্ত ঝুল বারান্দা রয়েছে।এর ওপরের অংশে কার্নিস বক্রাকার যা বেলস্ট্রেড নকশা শোভিত। মধ্যবর্তী অংশ ছাদের সামনের ভাগে আছে আট কোণা এবং খিলান সংবলিত বড় আকারের ছত্রী। এর ছাদ রয়েছে অর্ধগোলাকৃতি একটি গম্বুজে। ইমারতটির দুই কোণে দুটি করিনথীয় পিলার আছে এদের ওপরে দিকেও ছত্রী নকশা আছে। প্রতি তলায় মোট ১৩টি ছোট ও বড় আকারের কোঠা আছে। প্রথম তলায় প্রবেশের পর পশ্চিমাংশের বাম দিকে আছে ওপরের তলায় যাওয়ার জন্য বৃত্তাকার সিঁড়ি।

0 0 Reacts 0 View 61,190 Comment 0
Profile Photo

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ১০টি পর্বতশৃঙ্গ!

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ১০টি পর্বতশৃঙ্গ!

মেঘের টানে পাহাড় পানে, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ১০টি পর্বতশৃঙ্গ! ⛰️ আমাদের দেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে লুকিয়ে আছে আকাশছোঁয়া সব পর্বতশৃঙ্গ। ট্রেকিং প্রেমী...Read more

0 0 Reacts 0 View 24,301 Comment 0

সেন্টমাটিন দ্বীপ রাতের প্রকৃতির আরেক রহস্য। ?

সেন্টমাটিন দ্বীপ রাতের প্রকৃতির আরেক রহস্য। ?

লাখে লাখে তারা সৈকতে নেমে এসেছে। বিস্ময়কর না? সৈকতে যেন তারাবাতি জ্বালিয়ে দিয়েছে কেউ। এই তারাবাতির রহস্য প্রকৃতির আরেক রহস্য। মনে...Read more

0 0 Reacts 1 View 60,570 Comment 0

মেধাকচ্ছপিয় জাতীয় উদ্যান

মেধাকচ্ছপিয় জাতীয় উদ্যান

চকোরিয়া উপজেলার খুটাখালী মেধাকচ্ছপিয় জাতীয় উদ্যান ও নতুন তৈরি করা লেক। মেধা কচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত একটি জাতীয়...Read more

0 0 Reacts 2 View 93,417 Comment 0

সাদা মাটির পাহাড়

সাদা মাটির পাহাড়

সাদা মাটির পাহাড় বিরিশিরি, নেত্রকোণা। বিরিশিরি নেত্রকোণা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একটি গ্রাম। এখান থেকে চীনা মাটি সংগ্রহ করা হয়। ফলে পাহাড়ের...Read more

0 0 Reacts 1 View 94,031 Comment 0

টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ!

টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ!

টাঙ্গুয়ার হাওর (Tanguar Haor) সুনামগঞ্জ জেলার প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি। অথৈ পানি, জলাবন, নীল...Read more

0 0 Reacts 1 View 104,158 Comment 0

মধুটিলা ইকোপার্ক শেরপুর বাংলাদেশ।

মধুটিলা ইকোপার্ক শেরপুর বাংলাদেশ।

মধুটিলা ইকোপার্ক শেরপুর জেলা থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁওয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারিভাবে মধুটিলা ইকো পার্ক...Read more

0 0 Reacts 1 View 23,720 Comment 0

খাগড়াছড়ি জেলার একটি উপজেলা দীঘিনালা

খাগড়াছড়ি জেলার একটি উপজেলা দীঘিনালা

দীঘিনালা উপজেলা পরিচিতি। খাগড়াছড়ি জেলার একটি উপজেলা দীঘিনালা। বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। আয়তনে এটি খাগড়াছড়ি জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা। দীঘিনালা...Read more

0 0 Reacts 1 View 96,522 Comment 0

সোমেশ্বরী নদীর অজানা কিছু তথ্য!

সোমেশ্বরী নদীর অজানা কিছু তথ্য!

বাংলাদেশ ও ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। এটি মূলত ভারতের মেঘালয় রাজ্যে উৎপত্তি লাভ করে এবং পরে বাংলাদেশের নেত্রকোণা জেলায় প্রবেশ...Read more

0 0 Reacts 0 View 91,603 Comment 0

কক্সবাজার জেলার এ দর্শনীয় স্থান গুলো!

কক্সবাজার জেলার এ দর্শনীয় স্থান গুলো!

প্রায় প্রশ্ন আসে কক্সবাজারে কি কি দর্শনীয় স্থান আছে!. কক্সবাজারের বাসিন্দা বলে প্রশ্ন টা স্বাভাবিক আসেই। নিজেও অনেক নাম জানি না...Read more

0 0 Reacts 1 View 96,573 Comment 0

লালমনিরহাট জেলার ২১টি দর্শনীয় স্থান!

লালমনিরহাট জেলার ২১টি দর্শনীয় স্থান!

লালমনিরহাট জেলার ২১টি দর্শনীয় স্থান গুলো নিচে তুলে ধরা হল। ০১। আদিতমারী উপজেলা পরিষদ স্মৃতীসৌধ ও পুকুর। ০২। এক কাতার মসজিদ। ০৩। কাকিনা...Read more

0 0 Reacts 0 View 42,794 Comment 0