যখন তোমাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে বুঝে নেবে তুমি সফলতার পথে হাঁটছো! একবার খেয়াল করে দেখো, তুমি যখন সাধারণ কোনো সিদ্ধান্ত নাও, যেমন চাকরি করা, পরীক্ষা দেওয়া, বা বিয়ে করার মতো পরিচিত পথে হাঁটো, তখন খুব কম মানুষ কিছু বলে। কেউ সামান্য উৎসাহ দেয়, কেউ কিছু পরামর্শ দেয়, আর সব শেষ হয়ে যায়। কিন্তু ঠিক তখনই চারপাশ অস্বস্তিতে পড়ে যায়, যখন তুমি ভিন্ন কিছু করতে চাও। নিজের স্বপ্ন গড়তে চাও, নিজের মতো করে ভাবতে চাও, কিছু আলাদা করতে চাও। সেখান থেকেই শুরু হয় উপহাস এটা দিয়ে কী হবে? তোমার মতো মানুষ এটা পারবে? বেকার সময় নষ্ট করছো। এই কথাগুলো শুনে কষ্ট লাগা স্বাভাবিক। কিন্তু জানো কি? এই কথাগুলোই তোমাকে গড়ে তোলে, তোমাকে শক্ত করে। কেন উপহাস আসে? কারণ তুমি পরিচিত ছকে হাঁটছো না। মানুষ নতুন কিছুকে প্রথমে ভয় পায়। তারপর ব্যঙ্গ করে। এরপর প্রশ্ন তোলে, আর সবশেষে সেই নতুনকেই মেনে নেয়। যখন তুমি সাহস করে নিজের পথে হাঁটো, তারা তোমাকে ব্যতিক্রমী ভাববে। কিন্তু ব্যতিক্রমী হওয়াটাই তো বড় হওয়ার প্রথম ধাপ। সবাই যা করে, সেটাই যদি করো, নতুন কিছু সৃষ্টি হবে কীভাবে? উপহাস আসলে এক ধরনের প্রশংসা, ছদ্মবেশে তারা তোমাকে ব্যঙ্গ করে, কারণ তুমি তাদের পরিচিত গণ্ডির বাইরে চলে গেছো। তুমি চাইলে এই কথাগুলোতে ভেঙে পড়তে পারো, আবার চাইলে সেগুলোকে শক্তিতে পরিণত করতেও পারো। যত বেশি প্রতিক্রিয়া হবে উপহাসই হোক বা প্রশ্ন তত বেশি বুঝবে, তুমি কিছু একটা ঠিক করছো। ইতিহাসও তাই বলে... সত্যজিৎ রায়ের পথের পাঁচালী বানানোর সময় অনেকে বলেছিল এটা কেউ দেখবে না। জে. কে. রাউলিং-এর হ্যারি পটার ১২টি প্রকাশনী প্রত্যাখ্যান করেছিল। স্টিভ জবস, এলন মাস্ক, এমনকি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রত্যেকের জীবনেই প্রথমে উপহাস এসেছে। তাদের সবাইকে একসময় অসম্ভব বলা হয়েছিল। কিন্তু তারাই হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণা। তোমার জন্য বার্তা, যদি তুমি এখন উপহাসের মুখে দাঁড়িয়ে থাকো জেনে রাখো, তুমি একা নও। এটাই সেই পর্যায়, যেটা পেরিয়ে গেলে ভবিষ্যত তোমার হবে। নিজের উপর বিশ্বাস রাখো, কঠোর পরিশ্রম করো, আর ভেতরের আগুনটা জ্বালিয়ে রাখো। আজ যারা হাসছে, কাল তারাই তোমার গল্প বলবে অন্যকে। শেষ কথা, উপহাসের মধ্যে লুকিয়ে থাকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। তোমার স্বপ্নের দরজা খোলা শুধু দরজার সামনে একটু হাসির শব্দ বাজছে। ভয় পেও না। এগিয়ে যাও। সফলতা একদিন আসবেই। (ইন-শা-আল্লাহ)
Arifin Shuvo
Public . 20-Oct-2025উপহাসের আরেক নাম কি সফলতা!