ভারতে না গিয়ে যারা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে চান, তাদের জন্য নির্ভরযোগ্য এক গন্তব্য পঞ্চগড়। এই জেলার তিন দিক থেকেই ভারত। হিমালয়ের কাছাকাছি বলে গ্রীষ্মে তীব্র গরমের হাওয়া কিছুটা কম সেখানে। শীত মৌসুমের আগে আগে এখান থেকে স্পষ্ট দেখা যায়, হিমালয়ের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। পর্বতের চূড়ায় শ্বেত শুভ্র বরফে সোনালি রোদ দেখলে মনে হবে হাঁটা দূরত্বে বুঝি দাঁড়িয়ে সেটি। বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের এ জেলাটির বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর থেকে আকাশপথে এর দূরত্ব কেবল ১১ কিলোমিটার। কৃষিনির্ভর ঘন সবুজ জনপদ থাকে অনেকটাই আরামদায়ক। করতোয়া, ডাহুক, মহানন্দা, তালমা, পাঙ্গা এবং চাওয়াই ছাড়াও অনেক পাহাড়ি নদী রয়েছে এই জেলায়। হিমালয় অঞ্চলের শৈত্য প্রবাহের কারণে এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেশি। বাঙালি ছাড়াও এই জনপদে রয়েছে রাজবংশী, কোচ, পলিয়া, সাঁওতাল, ওঁরাওদের জনবসতি। জেলাটির তিন পাশেই আছে ভারত। ভারতের পুর্নিয়া, পশ্চিম দিনাজপুর, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কুচবিহার জেলা ঘিরে আছে একে। এখান থেকে নেপালের দূরত্ব কেবল ৬১ কিলোমিটার, ভুটান দাঁড়িয়ে ৬৪ কিলোমিটার দূরে। ধান ও গম চাষেও পঞ্চগড়ের সুনাম আছে। খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলাটিতে ইদানীং ছড়িয়েছে ভুট্টা, কমলা লেবু, বিদেশি ফল ট্যাংক, মাল্টা চাষও। তবে চা চাষ জেলার মানুষদের ভাগ্য পাল্টে দিয়েছে। সমতলেও যে চা চাষ হতে পারে, তার উদাহরণ তৈরি হয় ২০০০ সালের পরে। তিন হাজার একরেরও বেশি জমিতে চাষ হয় চায়ের। জেলায় পাঁচটি চা কারখানা আছে। এখানকার অর্গানিক চা ইউরোপ-আমেরিকাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হয়।
Bangla Facts
Public . 15-Feb-2025পঞ্চগড় জেলার অজানা কিছু তথ্য!