নিজের জন্য নিজের মতো বাঁচুন! লোকে তো কত কথাই বলে! পরের সব কথা নিয়ে পড়ে থাকলে নিজের বলতে আর কিছুই থাকবে না। কেউ বলে— “তুমি আগের মতো নাই”— তার মানে তুমি আগের মতো ব্যবহারযোগ্য নও; বরং চালাক হয়েছো, নিজের ভালো-মন্দ বুঝতে শিখেছো। স্বার্থ শেষ হলে মানুষ বদলে যাওয়ার অপবাদ দেবে। এটাই স্বাভাবিক। লোকে কী ভাবছে, কী বলছে। এসব মাথায় নিলে তুমি নিজেই নিজের শান্তি অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছো। হাতে গোনা কিছু মানুষ ছাড়া কেউ নিঃস্বার্থভাবে তোমার কল্যাণ চায় না—এ বিশ্বাস না থাকলে তুমি বোকার স্বর্গে বাস করছো। যে তোমার চারপাশে ভিড় করছে বা ঘুরছে, সবাইকেই শুভাকাঙ্ক্ষী ভাবা ভুল—মানুষের মুখের কথা আর মনের কথা এক নয়। যারা তোমাকে নিয়ে নানাভাবে ভাববে, তাদের কথা শুনতে গেলে তুমি নিজেকে হারিয়ে ফেলবে। নিজের বিচারবুদ্ধি যদি ঠিক পথে চালাতে পারে, তবে সেই পথেই চলা শ্রেয়। পরের বুদ্ধিতে রাজা হওয়ার চেয়ে নিজের বুদ্ধিতে প্রজা থাকাও ভালো। কেউ কী বললো তাতে বিশেষ কিছু যায় আসে না; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তোমার ভালো থাকা। অন্যের কথায় মন খারাপ করলে দিন নষ্ট হবে। আর পরের কাছ থেকে তেমন কিছু পাওয়ারও নেই। তাই আনন্দে বাঁচার উপলক্ষ নিজেই তৈরি করতে হবে। ব্যস্ততা মানুষকে সুস্থ রাখে, অলসতা বিপথে নিয়ে যায়। অলস হলেই অন্যের কথা মনে বাজবে, তুলনা থেকে কষ্ট আসবে বা অহংকার বাড়বে। তাই নিজেকে ব্যস্ত রাখো পড়ো, শিখো, সৃজন করো। খুঁজলে নিজের ভেতর এমন গুণই পাবে, যা তোমাকে অনন্য করে তুলবে। কেউ আঘাত দিলে সেই আবর্জনা বয়ে বেড়ানোর প্রয়োজন নেই। মানুষ তোমাকে নিয়ে আলোচনা করে, তার মানে তুমি গুরুত্ব পাওয়ার মতো কেউ। নিন্দা-সমালোচনা তোমাকে ছোট না করে, বরং বুঝিয়ে দেয় তুমি আলোয় আছো। এবার নিজেকে আবিষ্কার করো, দেখিয়ে দাও! তুমি তাদের কথার উল্টো চরিত্র; তোমার মধ্যে রয়েছে উপেক্ষা করার শক্তি, সততায় টিকে থাকার সাহস। তোমার ভালো থাকার জন্য যা প্রয়োজন, তাই করো। এতে কে বাঁধা হলো, কে বকা দিলো, এসব গুরুত্বহীন। মন ভালো না থাকলে পৃথিবীর সব আয়োজনই অর্থহীন। ধীরে ধীরে নিজেকে সাজাও, উন্নত করো। যারা তোমাকে খোঁচায়, তারাই যেন একদিন তোমার সাফল্যে আফসোস করে। এই প্রস্তুতি নাও। সময়কে হারানোর মতো শক্তি তোমার আছে। সেটা কাজে লাগাও। বিজয় ঠেকানোর ক্ষমতা কারো নেই।
Life Story
Public . 01-Dec-2025কেন নিজের জন্য নিজের মতো বাঁচুন?