বলিভিয়ার সুক্রে শহরের কাছেই আছে এক বিস্ময়কর স্থান। প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু এক দেয়ালের মতো খাড়া শিলা। কিন্তু আসল বিস্ময় হলো, এই দেয়ালে ছড়িয়ে আছে পাঁচ হাজারেরও বেশি ডাইনোসরের পায়ের ছাপ! ঠিক যেন প্রাগৈতিহাসিক যুগের কোনো বই হঠাৎ খুলে গেছে আমাদের সামনে। এ জায়গার নাম কাল অরকো। আজ যেটাকে আমরা দেয়াল ভাবি, সেটা একসময় ছিল লেইট ক্রেটাশিয়াস যুগের কাদাভরা হ্রদের কিনারা। তখনো পৃথিবীতে ছিল ডাইনোসরদের রাজত্ব। নানা প্রাণী দল বেঁধে হেঁটে যেত সেই নরম কাদার ওপর দিয়ে। কালের পরিক্রমায় সেই কাদা শুকিয়ে শক্ত হলো, স্তরে স্তরে জমে তৈরি হলো চুনাপাথর। পরে ভূমিকম্প আর ভূ-তাত্ত্বিক পরিবর্তনে সেই স্তরগুলো কাত হয়ে দাঁড়িয়ে যায়, একেবারে খাড়া দেয়ালের মতো! আজ সেই দেয়ালে দেখা যায় ৪৬২টি পৃথক পথচিহ্ন, অন্তত ১০ ধরনের ডাইনোসরের। টাইটানোসোর, অ্যাঙ্কাইলোসোর, থেরোপড- আরো কত কী! ডাইনোসরদের দলবদ্ধ চলার পথ যেন আজও চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেখানে গেলে। সেসবের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো প্রায় ৩৪৭ ফুট বিস্তৃত এক পদচিহ্ন। ধারণা করা হয়, 'জনি ওয়াকার' নাম দেওয়া এক কিশোর টাইরানোসরাসের পায়ের ছাপ সেটা। কিন্তু এই বিস্ময়-দেয়ালও ক্ষয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। সংরক্ষণবিদরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চেষ্টা করছেন এই প্রাকৃতিক ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখতে। কাছেই তৈরি হয়েছে পার্কে ক্ৰেতাসিকো; এক জাদুঘর, যেখানে দাঁড়িয়ে মানুষ চোখের সামনে দেখতে পারে সেই পায়ের ছাপ, যেগুলো সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে আজও টিকে আছে।
Bangla Facts
Public . 06-Dec-2025বলিভিয়ার সুক্রে শহরের কাছে এক বিস্ময়কর স্থান!