১৬০৯ সাল আর আজকের ম্যানহাটনের আকাশছোঁয়া অট্টালিকার জায়গায় তখন ছিল ঘন বন, জলাভূমি আর খোলা প্রান্তর। সেই বছরই দ্বীপটির নামকরণ হয়- ম্যানহাটন। আজ যাকে আমরা বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত শহরগুলোর একটি হিসেবে চিনি, একসময় সেখানে প্রকৃতিই ছিল প্রধান বাসিন্দা। এই অঞ্চলের প্রথম বাসিন্দা ছিল লেনাপে গোত্রের মানুষজন। তারা ছিল অ্যালগনকুইন জনগোষ্ঠীর অংশ। ডেলাওয়্যার ও হাডসন নদীর মধ্যবর্তী এলাকায় তারা শিকার করত, মাছ ধরত, আর চাষাবাদ করত। প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়েই চলত তাদের জীবন। ষোড়শ শতকের শুরুতে ইউরোপীয়দের আগমন শুরু হয়। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ইতালীয় নাবিক জিওভান্নি দা ভেরাজ্জানো। তিনি এশিয়ার দিকে নতুন জলপথ খুঁজতে গিয়ে উত্তর আমেরিকার আটলান্টিক উপকূল ধরে যাতায়াত করেন। তবে তখনও এখানে কেউ স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তোলেনি। স্থায়ী বসতির শুরু হয় ১৬২৪ সালে। সে বছর ডাচ ওয়েস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রায় ৩০টি পরিবারকে পাঠায় একটি ছোট দ্বীপে। দ্বীপটির নাম ছিল নাটেন আইল্যান্ড, যা আজ পরিচিত গভর্নরস আইল্যান্ড নামে। সেখানে তারা একটি ক্ষুদ্র বসতি গড়ে তোলে, যার নাম দেওয়া হয় নিউ আমস্টারডাম। দুই বছর পর, ১৬২৬ সালে, বসতির গভর্নর জেনারেল পিটার মাউনুইট স্থানীয় আদিবাসীদের কাছ থেকে পুরো ম্যানহাটন দ্বীপটি কিনে নেন। বিনিময়ে দেওয়া হয় ৬০ গিল্ডারের পণ্য, যার মধ্যে ছিল হাতিয়ার, কৃষি সরঞ্জাম, কাপড় আর ওয়াম্পাম নামের ঝিনুকের পুঁতি। সে সময় নিউ আমস্টারডামে বসবাস করত তিনশজনেরও কম মানুষ। এরপর শহরটি দ্রুত বাড়তে থাকে। ১৭৬০ সালে, তখন এর নাম বদলে হয়ে নিউ ইয়র্ক সিটি, জনসংখ্যা দাঁড়ায় ১৮ হাজারে। সে সময় এটি বোস্টনকে ছাড়িয়ে আমেরিকান উপনিবেশ গুলোর মাঝে দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হয়ে ওঠে। আর মাত্র পঞ্চাশ বছর পর, জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ২ হাজার ৫৮৯ জনে। তখন নিউ ইয়র্ক হয়ে ওঠে পুরো পশ্চিম গোলার্ধের সবচেয়ে বড় শহর। আজ সেই ছোট দ্বীপেই বাস করে ৮৫ লক্ষের মতো মানুষ। বনভূমির জায়গায় উঠেছে ইস্পাত আর কাচের অট্টালিকা। নদীর ধারে গড়ে উঠেছে বন্দর, সড়ক, সেতু। ১৬০৯ সালের ম্যানহাটন থেকে আজকের নিউ ইয়র্ক। সময় বদলে দিয়েছে তার চেহারা, শব্দ, আর জীবনের গতিবিধি। আমেরিকার হাজার হাজার বছরের ইতিহাস জানতে লাইক কমেন্ট করে আমাদের সাথে থাকুন।
Bangla Facts
Public . 29-Dec-2025১৬০৯ সালের ম্যানহাটন থেকে আজকের নিউ ইয়র্ক!