বিজ্ঞান জগতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বিমান বা উড়োজাহাজ আবিষ্কার। ১৯০৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর সর্ব প্রথম নিয়ন্ত্রিত, শক্তিসম্পন্ন এবং বাতাসের চাইতে ভারী সুস্থিত মানুষ-বহনযোগ্য উড়োজাহাজ আবিষ্কার করেন ব্রাদার্স উইলবার রাইট এবং অরভিল রাইট। এরপর থেকে কালের বিবর্তনে সেই আবিষ্কার আরও উন্নতি লাভ করছে। ফলস্বরূপ স্থলপথ, জলপথের পাশাপাশি আকাশ পথেও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সৃষ্টি হয়ছে। আপনি বিমানের দিকে লক্ষ করলে দেখবেন এদের বেশির ভাগ বিমানই সাদা রঙের পেইন্টিং করা। কখনও কি মনে প্রশ্ন জেগেছে কেন বিমানের রঙ সাদা হয়? আমরা জানি, উড়োজাহাজ ভূমি থেকে সাধারণ নির্দিষ্ট উচ্চতায় উড়ে থাকে যা ৩০০০০ - ৪০০০০ ফুট ধরা হয়। বিমানের এই উচ্চতাকে ক্রুজিং অ্যালটিটিউড বলে। এত উচ্চতায় বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব কম, যার ফলে সূর্য থেকে আসা অতিবেগুনী রশ্মির (তরঙ্গদৈর্ঘ্য ১০ ন্যানোমিটার থেকে ৪০০ ন্যানোমিটার) পরিমাণ বেশি থাকে। বিমানে সাদা রঙ ব্যবহার করা হয় কারণ এতে যেন সূর্যালোক থেকে আগত রশ্মি শোষণ করতে না পারে। কারণ সূর্যালোক থেকে অতিবেগুনি আলোকরশ্মি শোষিত হলে বিমানের যন্ত্রাংশের ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে। আর সাদা বর্ণ অন্যান্য বর্ণের চেয়ে প্রায় ৯৯% আলোর প্রতিফলন করতে পারে। ফলে সূর্যালোক থেকে আগত অতিবেগুনী রশ্মির ৯৯% আলো প্রতিফলন করতে সক্ষম। আবার অন্যদিকে, সাদা রঙ ব্যবহার করার ফলে যেকোন ত্রুটি সহজেই চিহ্নিত করা যায়। বিমান উড্ডয়ের আগে বিমানটিকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করা হয় যেন কোনো ত্রুটি আছে কি না। সাদা ব্যবহারের ফলে বিমান কোনো ফাটল, আঁচড়ের দাগ, ফুয়েল লিকেজ হয়েছে কি না তা সহজেই দৃশ্যমান হয়। ফলে উক্ত স্থান সহজেই চিহ্নিত হয়। রাতে বিমান চলাচলের সময় কোনো ধরনের দূর্ঘটনা ঘটে গেলে বা কোথাও হারিয়ে কিংবা সমুদ্রের উপর যাতায়াত কালে তা সমুদ্রে পতিত হলে সাদা বর্ণের জন্য সহজেই শনাক্ত করা যায়। তাই দূর্ঘটনা এড়ানো ও আলোর প্রতিফলনসহ তাপ শোষিত না হওয়ার জন্য বিমানে সাদা রঙ ব্যবহার করাই নিরাপদ।
Bangla Facts
Public . 21-Dec-2023বিমানের রঙ সাদা রাখা হয় কেন?