নীল নদের পশ্চিম তীরে, মিশরের লুক্সর শহরের কাছে দাঁড়িয়ে আছে দুই বিশাল পাথরের মূর্তি কলোসি অব মেমন। প্রাচীন মিশরের অন্যতম বিস্ময় এই স্থাপনা গুলো তৈরি করা হয়েছিল আজ থেকে তিন হাজার বছরেরও বেশি আগে, আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৩৫০ সালে, ফেরাও ৩য় আমেনহোটেপ-এর শাসনামলে। প্রতিটি মূর্তির উচ্চতা প্রায় ৬০ ফুট। মূর্তিগুলোতে ফেরাউনকে দেখা যায় সিংহাসনে বসা অবস্থায়, হাঁটুর উপর হাত রেখে পূর্ব দিকে সূর্যোদয়ের দিকে তাকিয়ে। এই দুই মূর্তি নির্মিত হয়েছিল এক বিশাল মন্দিরের প্রবেশপথের প্রহরী হিসেবে। দুর্ভাগ্যবশত, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভূমিকম্প ও বন্যায় মন্দিরটির বেশিরভাগ অংশ ধ্বংস হয়ে যায়, কিন্তু এই দুটি মূর্তি আজও দাঁড়িয়ে আছে। প্রাচীন মিশরের স্থপতি ও ভাস্করদের অসাধারণ দক্ষতার জীবন্ত প্রমাণ হিসেবে। মূর্তিগুলো তৈরি হয়েছিল দূরবর্তী খনিগুলো থেকে আনা কোয়ার্টজাইট পাথর দিয়ে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ক্ষয়ের পরও, এখনো মূর্তিগুলোর কিছু অংশে ফেরাউনের মুখাবয়ব, পোশাকের ছাপ, এমনকি তার পায়ের কাছে খোদাই করা ছোট ছোট মূর্তির অস্তিত্ব স্পষ্ট—যেগুলো সম্ভবত তাঁর পরিবার বা দেবতাদের প্রতিনিধিত্ব করে। প্রাচীন যুগে এই মূর্তিগুলোর একটি নিয়ে ছড়িয়ে পড়ে রহস্যময় এক কাহিনি। প্রতিদিন ভোরে মূর্তিটি এক অদ্ভুত শব্দ করত, যা মানুষ বিশ্বাস করত গ্রিক পুরাণের বীর মেমননের কণ্ঠস্বর। এই গান রোমানদের সংস্কারে বন্ধ হয়ে যায়, তবে সেই কাহিনি একে পরিণত করে একটি ঐতিহাসিক তীর্থস্থানে। দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকরা আসত এই বিস্ময়কর মূর্তি দেখতে।
Bangla Facts
Public . 26-May-2025মিশরের লুক্সর শহরের কাছে দুই বিশাল পাথরের মূর্তি কলোসি অব মেম ইতিহাস!