অল্প দিয়ে যার মন পাওয়া যাবে না, তাকে বেশি দিলেও মন পাবেন না! গ্রামের এক দাদা একটা কথা বলতো, তোর বাড়িতে ডাল ভাত খাইয়া যে সন্তুষ্ট হবে না, তারে উট গরু খাওয়াইলেও কোনদিন সন্তুষ্ট করতে পারবি না। এপ্রিসিয়েশন তথা কৃতজ্ঞতাবোধ একটা হিউম্যান ন্যাচার। অকৃতজ্ঞতাবোধও। তো যার মধ্যে কৃতজ্ঞতাবোধ আছে, তাকে আপনি একটা গাদা ফুল দিলেও সে সেইটা মনে রেখে আপনাকে থ্যাংকিউ দেবে। আর মধ্যে নাই, তাকে এক গুচ্ছ গোলাপ দিলেও বলবে, জবা কই? জবা আনোনি? এইটা কিন্তু শুধু প্রেম বা ভালোবাসার ক্ষেত্রে না, ইভেন নিজের ফ্যামিলির জন্যও সত্য। পৃথিবীতে আপনি দুই প্রকার মানুষ খুঁজে পাবেন।যারা সব পেয়েছে। আর যারা কিছুই পায়নি। যারা সব পেয়েছে, তাদের কি অপ্রাপ্তি নাই? আছে কিন্তু। বাট সেই অপ্রাপ্তিটাকে তারা ঢেকে রাখে কৃতজ্ঞতা দিয়ে। আর যারা কিছুই পায়নি, তাদের কি প্রাপ্তি নাই? আছে বাট ঐটাকে তারা ঢেকে রাখে অভিযোগ দিয়ে। এইজন্যই আল্লাহর কাছে খুব বেশি অভিযোগ করা মানুষের ব্যাপারে আমি সাবধান থাকি। স্রষ্টাই যাকে খুশি করতে পারে নাই,আমি কেমনে করবো? দেখবেন, আমাদের মানসিক অশান্তির মূলে থাকে কিছু অকৃতজ্ঞ মানুষ। তাদের সন্তুষ্ট করতে যাইয়া আমরা আমাদের সবটুকু নিংড়ে দিই। বাট তারপরও লাভ হয়? হয় না তো। বরং দিনশেষে আরো বেশি অভিযোগ। ভালোবাসো, তা অমনে বাসলা না কেন? গিফট দিছো, তা ঐটা দাও নাই কেন? গল্প করছো, বাট অমুক গল্প করো নাই কেন? এই গেমের এক পাশে এংজাইটি। আরেক পাশে ট্রমা। মাঝখানে যন্ত্রনা। প্রাপ্তি বলতে কিছু থাকে না। এই গেমে নামা মানে আপনি হারবেনই। এবং শুধু হারবেন না, নিজেকেও হারাবেন। তাই লাইফ পার্টনার বলেন, বন্ধু বলেন, ফ্যামিলি বলেন, কৃতজ্ঞ মানুষকে আশেপাশে রাখা খুব জরুরি। এটাই আসলে জান্নাত আর জাহান্নাম। আপনার বাবা আপনাকে নিয়ে গর্বিত, আপনার মা আপনাকে নিয়ে খুশি, আপনার ভাই বোন আপনার কিনে দেওয়া কলম সবাইকে দেখাইয়া বেড়ায়, আপনার প্রিয়তমা আপনার কিনে দেওয়া ২০ টাকার ফুল যত্ন করে রেখে দেয়, আপনার জীবন জান্নাত ছাড়া আর কী? আর যদি উল্টো হয়? যদি আপনার এই প্রতিটা বা কোন একটা এলিমেন্টের মধ্যে অকৃতজ্ঞ কেউ ঢুকে পড়ে, তাহলে আপনার লাইফ জাহান্নাম হতে আর বাকি থাকে? কুরআনে আল্লাহ পাক বলতেছেন, মানুষ তোমরা বড়ই অকৃতজ্ঞ। চিন্তা করে দেখেন, জন্মের পর থেকে এখন পর্যন্ত আপনার যত পেরেশানি, কোনটাই আপনার জন্য না। আপনার সব পেরেশানির মধ্যেই কোন না কোন অকৃতজ্ঞ মানুষের অভিযোগের বোঝা আছে। এই বোঝা নিয়ে আপনি না পারেন আপনাকে নিয়ে খুশি থাকতে, না পারেন অকৃতজ্ঞ মানুষটাকে খুশি করতে। অথচ এর এক ভাগও যদি কোন কৃতজ্ঞ মানুষের জন্য করেন, সে আপনাকে মাথায় করে রাখবে। আপনার কনফিডেন্স বাড়বে। নিজেকেও ভালোবাসতে তখন ভালো লাগবে। এখন বলতে পারেধ,অকৃতজ্ঞ কারো জন্য করলে ক্ষতি কী? ক্ষতি হলো মানুষের এনার্জি লিমিটেড। মানুষের গুড উইল লিমিটেড। ঐটা অকৃতজ্ঞ কারো পেছনে খরচ করে ফেললে ঐটা নিজের সাথেই করা আপনার জুলুম। কারণ খারাপ কথা শুনতে শুনতে নিজেকেই আপনার গুড ফর নাথিং মনে হতে হতে একটা সময় আপনি আসলেই গুড ফর নাথিং হয়ে যাবেন। অথচ কৃতজ্ঞ মানুষ এপ্রিসিয়েশন আর মোটিভেশনের মাধ্যমে আপনার এই গুড উইলটাকে আরো বেশি ট্রিগার করতে পারতো। আমার কাছে বহু মেসেজ আসে। ভাই কেমন মেয়ে বিয়ে করবো, মানুষ চিনবো কী করে, বন্ধু বানাবো কী দেখে? আমি বলি, কৃতজ্ঞ মানুষ খুঁজে বের করেন। যে মানুষটা আপনার এনে দেওয়া চাঁদের আলো পরম যত্নে কোটায় ভরে রাখে, আস্ত চাঁদটাও কেবল তার জন্যই আনা উচিত!
Bangla Story
Public . 27-Feb-2026অল্প দিয়ে যার মন পাওয়া যাবে না, তাকে কি বেশি দিলে মন পাবেন?