একদিকে শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়ানো বা উদ্যোক্তা হওয়ার বাসনার সাথে সমানতালে লড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ায় কাজ করা। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম খুব বেশিই কনফিউজড সে কি করবে, কোন রাস্তায় এগোবে। কারণ দুটির শেষপ্রান্তে রয়েছে একটি ভালো ক্যারিয়ার গঠন। উদ্যোক্তা হতে হলে সাহস, অর্থ, মেধা এবং ভীষণ পরিশ্রমের মানসিকতা রাখতে হয়। অপরদিকে একটি টিকটক একাউন্ট খুলে সেখানে কন্টেন্ট বানাতে খরচ হয় মাত্র কয়েক মিনিট। কিন্তু আমরা কয়জন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে দেখছি খুবই ভালো উপকারী রিলস বানাচ্ছে? এ ক্ষেত্রে মেয়েদের জন্য এসমস্ত প্লাটফর্মে ভালো উপার্জন করা পানির মতো সোজা। একটু আবেদনময়ী হলেই ভিউয়ার্সের অভাব হবে না। অথবা ছেলেরা যতো লেইম ভিডিও বানাবে, ততো বেশি উপার্জনের সুযোগ কারণ দর্শকরা অখাদ্য বেশি খায়। সুতরাং আমি ক্রিয়েটরদের এককভাবে দোষারোপ করবো না! কারণ তারা ভালো কিছু করে এখান থেকে উপার্জন বা ক্যারিয়ার বানানো হাজারগুণে কঠিন! আপনি ফেসবুক, ইন্সটা বা বাকি ওয়েবসাইট গুলোর ক্ষেত্রে দেখেন। খুবই ভালো মানের লিখাগুলো সবার কাছে পৌঁছাচ্ছে না। হেল্পফুল পোস্টগুলোর বিপরীতে রিচ পায় 'আজকের দিনের সেরা ছবি' নামক হাবিজাবি যতো পোস্ট। অডিয়েন্সই যখন বেশি উল্টাপাল্টা খাবে তখন এলগরিদম এমনটাই সেট হয়ে যাবে। আমাদের নিজেদের রুচির উপর নির্ভর করে আমাদের ক্যারিয়ার। তরুণরা উপস্থিত যেটা দেখে সেটার উপর আকৃষ্টতা তাদের বেশি থাকে। সুতরাং পরিষ্কারভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্যারিয়ার গঠনের হার এবং সম্ভাবনা বাড়বে। কিন্তু এখানেই হচ্ছে আসল ক্যাচাল। আমরা এতো বাজে রুচির কন্টেন্ট বানানো শুরু করি, এক পর্যায়ে লাজলজ্জা সব বিক্রি করে টাকা কামাই। এটি কোনো সুস্থ ক্যারিয়ার হতে পারে না। বরং প্রাইভেসি বিক্রি করে নিজের এবং নিজের প্রিয় মানুষদের বাড়তি ঝামেলায় ফেলে দিচ্ছি। দিনশেষে বদলাবেটা কে? অডিয়েন্স নাকি ক্রিয়েটর? আসলে দুই বিভাগকেই সমানতালে এফোর্ট দিয়ে ক্যারিয়ার গঠনের মতো প্লাটফর্ম সোশ্যাল মিডিয়ায় আছে। আমি নিরুৎসাহিত করবো না কন্টেন্ট বানাতে তবে আপনার ব্যক্তিত্ব এবং প্রাইভেসি বিক্রি করে যদি ক্যারিয়ার গঠনের চাহিদা থাকে তাহলে এই লাইনে না আসাই মঙ্গল। যদিও আমি খুব একটা সুখকর বা আশাবাদি চিত্র দেখছিনা যেহেতু সব ধরণের মানুষের বিচরণ একই প্লাটফর্মে। তবুও চাওয়া যে সোশ্যাল মিডিয়া গুলো হোক সুস্থ বিনোদন এবং অনেক নতুন কিছু জানার একটা প্রধান মাধ্যম।
Life Story
Public . 27-Jan-2025সোশ্যাল মিডিয়া গুলো হোক সুস্থ বিনোদন!