অনেক দিন আগে একটা গল্প পড়েছিলাম, যেখানে এক কিশোর মাঠের কোণে দাঁড়িয়ে একমনে ঘুড়ি উড়াচ্ছিল। এমন সময় বাড়ি থেকে খবর এলো, ওর মা ওকে ডাকছে। ঘুড়ি তখন নিঃসীম আকাশে। নাটাই রেখেই দৌড় দেবে নাকি? ঘুড়ি নামিয়ে আনতে তো অনেক সময় লাগবে। দ্বিধায়গ্রস্ত কিশোর। পাশেই কয়েকটি যুবক ছেলে আড্ডা দিচ্ছে। তারা মাঝেমধ্যে ওর ঘুড়ির পোজ দেখে প্রশংসাও করছে। মা ডাকছে শুনে তারা এগিয়ে এলো। কিশোর তাদের কারও হাতে নাটাই দিয়ে দ্রুত মায়ের কাছে ছুটে গেলো। ফিরতে কি একটু দেরি হলো ওর? এসে দেখে, যাদের হাতে পরম নির্ভরতায় রেখে গেলো সাধের ঘুড়ি, তারা সুতা কেটে দিয়েছে। ঘুড়িটা এখন বিশাল আকাশে গোত্তা খেয়ে খেয়ে ঘুরছে, আর কিশোর অসহায়ের মতো তাকিয়ে আছে। তার কানে ভেসে আসছিল যুবকদের বকদের ঠাট্টাঝরা হাসির শব্দ। আমাদের জীবনও অনেকটা এই ঘুড়ির মতো। আমরা প্রায়শই কারও হাতে নির্ভরশীল থাকি, আর কেউ সে সুতা কেটে দেয়। আমরা তখন বিভ্রান্ত হয়ে গোত্তা খেতে খেতে উড়তে থাকি। এর ওর কাছে ধর্না দিই, অবিশ্বাসে। তারপর আবার কখনও কারও কাছে আশ্রয় খুঁজে ফেরি—কিন্তু কী জানি, সে-ও যদি আমাদের সুতা কেটে দেয়!
Life Story
Public . 29-Dec-2024আমাদের জীবন কি ঘুড়ির মতো!