কোরআন সান্ত্বনা ও প্রশান্তি দান করে!

আমরা বিপদাপদ ও জীবনের পরীক্ষা মোকাবেলায় মানসিক শক্তির অন্বেষণ করি। এটা অনেক বড় একটা ব্যাপার। আল্লাহ কুরআনের মাধ্যমে এই কাজটা করেন। আমাদের প্রতিদিন পরীক্ষা করা হয়। কখনো এই পরীক্ষা হয় ছোট ধরণের, আবার কখনো বড় ধরণের। চলুন বড় বড় পরীক্ষাগুলো নিয়ে একটু জানতে চেষ্টা করি। বড় পরীক্ষাগুলো কী কী? পরিবারে কারো মৃত্যু, প্রিয় কারো মৃত্যু, বন্ধুর মৃত্যু। আর কী? অর্থ সংক্রান্ত পরীক্ষা, টাকা-পয়সার সমস্যা, অসুস্থতা, ব্যর্থতা, হতাশা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ। পরিবার, সন্তান-সন্ততি ও সম্পর্ক বিষয়ক জটিলতা। কখনো কখনো পিতামাতার সাথে আমরা সমস্যায় জড়িয়ে পড়তে পারি। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সমস্যা তৈরী হতে পারে, ভাই-বোনের মাঝেও সম্পর্ক খারাপ হয়ে পরতে পারে। নিজেকে সবার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখাও পরীক্ষা হতে পারে। আপনি একাকিত্ব অনুভব করেন, মনে করেন কেউ আপনাকে বুঝতে পারে না। কোনো কুঅভ্যাসে আসক্ত হয়ে পড়াও পরীক্ষা হতে পারে। ব্যাপারটা হলো, মানুষ যখন কঠিন সময় অতিক্রান্ত করে তখন কোন জিনিসটি তাদের বেশি প্রয়োজন? সান্ত্বনা, সমর্থন। কারো কাছে সমস্যাটি মন খুলে বলা। জানেন কত মানুষ আমার কাছে আসে আর বলে? ~❛আপনার সাথে আমি দুই মিনিট কথা বলতে চাই।❜ এই দুই মিনিট বলতে বলতে দুই ঘন্টায় পরিণত হয়। ❛আমার একটা সমস্যা আছে। আমি কেবল আপনার সাথে এ নিয়ে কথা বলতে পারি, এই গ্রহের আর কেউ আমার এই সমস্যাটি বুঝবে না।❜ আমি মানুষের সমস্যাকে ছোট করে দেখছি না। আসলেই মানুষ সমস্যায় পড়লে কারো সাথে কথা বলতে চায়। তখন মানুষ যা চায় তা হলো—তাদেরকে আশা দেখানো, এটা দেখিয়ে দেয়া যে এই সমস্যাসঙ্কুল অন্ধকার পথের পর আপনি আলোর দেখা পাবেন। তাদের এই সাহস দেয়া যে এই সমস্যা মোকাবেলা করার শক্তি তাদের রয়েছে, তারা তাদের পরীক্ষার চেয়ে শক্তিশালী। যে বিপদেই তারা আক্রান্ত থাকুক না কেন এতে অবশ্যই ভালো কিছু আছে। তারা চায় কেউ এই কথাগুলো ভালোবাসা, স্বান্ত্বনা ও আন্তরিক মমতা দেখিয়ে বলুক। যখন এই মমতাময় কথাগুলো বড় কারো কাছ থেকে আসে তখন এর মূল্য আপনার কাছে অনেক বেশি। যখন আপনার বাবা, শিক্ষক অথবা বড় কোনো আলেম যদি এই স্বান্ত্বনামূলক কথাগুলো আপনাকে বলে, তখন আপনি এক ধরণের প্রশান্তি অনুভব করেন। স্বামী তখন বলে—❝আমি তোমাকে এই কথাগুলো সবসময় বলে আসছি, তুমি তো এগুলোর কোনো দামই দাওনি। তিনি সেই একই কথাগুলো বলেছেন, আর এখন হঠাৎ করে তোমার অন্তর একেবারে প্রশান্ত হয়ে গেছে!❞ কেন? কারণ কর্তৃত্বের জায়গা থেকে কেউ যখন আপনাকে স্বান্ত্বনা প্রদান করে, তখন সান্ত্বনা নিজেই কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে উঠে। একজন বিশ্বাসীর জীবনে কুরআনের অন্যতম একটি ভূমিকা হলো—আমি একটি সমস্যায় ভুগছি, আমার এমন কাউকে দরকার যে আমাকে স্বান্ত্বনা দিবে। এখন কে আপনাকে স্বান্ত্বনা দিবে? আল্লাহর বাণী আপনাকে স্বান্ত্বনা দিবে। আপনি যখন কুরআন খুলে যেকোনো একটি পৃষ্ঠা পড়া শুরু করবেন, তখন ঠিক আপনার সমস্যার আলোকেই এতে স্বান্ত্বনা খুঁজে পাবেন। নিউইয়র্কে থাকাকালীন আমার অন্যতম সেরা এক বন্ধু। প্রায় ১২ বছর আগের একটা ঘটনা। একদিন সে আমাকে জিজ্ঞেস করে, ❝আচ্ছা নোমান, আমরা কুরআন থেকে কীভাবে হেদায়েত (পথনির্দেশনা) পাবো? আমি কুরআন থেকে হেদায়েত পেতে চাই। কীভাবে শুরু করবো? এখানে কি সুচির মতো কিছু আছে? যেমন, যদি তোমার ধৈর্য ধরা নিয়ে সমস্যা থাকে তাহলে এই আয়াতগুলো পড়, স্বাস্থ্য নিয়ে সমস্যা থাকলে এই আয়াতগুলো পড়। কী করো তুমি?❞ তাকে বললাম—আচ্ছা এভাবে চেষ্টা করে দেখ। এখন থেকে তুমি কোনো সমস্যায় পড়লে সাথে একটি মুসহাফ রাখবে। যেকোনো একটা পৃষ্ঠা খুলে পড়তে শুরু করবে এই নিয়তে যে তুমি আল্লাহর কাছ থেকে প্রশান্তি চাইছো, পথনির্দেশা চাইছো। এই পথনির্দেশনা অন্তরের জন্য। পড়, দেখ কী হয়। টানা দুই সপ্তাহ ধরে প্রতি রাতে মসজিদে ইশার নামাজের সময় সে আমাকে বলতো—ভাই, এটা আবার কাজ করেছে! এটা আবার কাজ করেছে! আশ্চর্য! মানুষ এ সম্পর্কে জানে না। আশ্চর্য ব্যাপার! আমি সমস্যায় পড়ি আর কুরআন পড়তে শুরু করি, দুই তিন আয়াত পড়তে না পড়তেই আমি পেয়ে যাই! কুরআনের তো এমনই হওয়ার কথা! কিন্তু কুরআন আপনাকে এটা দিবে না যদি আপনি সমালোচক হিসেবে এর কাছে আসেন। মনে আছে আমি বলেছিলাম? কুরআন আপনাকে এটা দিবে যদি আপনি একজন অন্বেষণকারী হিসেবে আসেন। এটা আপনাকে প্রশান্তি দিবে, এটা আপনার সাথী হয়ে যাবে। আর তখন সালাত হবে থেরাপি (রোগের উপশম)। আপনি আগে কোনো কাউন্সিলরের কাছে যেতেন, এখন আপনি আল্লাহর সাথে কথা বলেন, আর আল্লাহও আপনার সাথে কথা বলবে। এটা হয়ে উঠবে এক সৌন্দর্যমণ্ডিত ব্যাপার। আপনি অনেক কুরআন শিখতে পারেন, বুঝতে পারেন, কিন্তু সত্যিকারের স্বাদ পাবেন যখন এই থেরাপি ঘটে। অনেক সময় এই থেরাপিটা ঘটে সালাতের মাঝখানে। এই সময়গুলোই একজন বিশ্বাসীর জীবনের সুন্দরতম সময়। যখন কোনো আয়াত আপনাকে বজ্রপাতের মতো আঘাত করে, ঠিক আপনারই সমস্যার আলোকে, ওহ এটা কুরআনের এক অনন্য উচ্চতম স্তর!

0 0 Reacts 0 View 60,420 Comment 0
Profile Photo

জিহ্বা দিয়ে যে ১৯টি পাপ সংঘটিত হয়!

জিহ্বা দিয়ে যে ১৯টি পাপ সংঘটিত হয় তা হল। ০১) কারও নাম খারাপ করে ডাকা/নাম ব্যঙ্গ করা। ০২) খারাপ ঠাট্টা বা বিদ্রূপ...Read more

0 0 Reacts 4 View 10,556 Comment 0

দুনিয়া কি এখন সভ্যতার চূড়ায়!

দুনিয়া কি এখন সভ্যতার চূড়ায়!

দুনিয়া নাকি এখন সভ্যতার চূড়ায়! প্রযুক্তি নাকি আমাদের গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত করেছে! কী ভয়ানক তামাশা! একটি নিরীহ উপত্যকায় দিনের পর দিন, ঘণ্টার...Read more

0 0 Reacts 0 View 75,628 Comment 0

কেন হতাশ হবেন না?

কেন হতাশ হবেন না?

হতাশ হবেন না! বিশ্বাস রাখুন, আপনার জন্যও সুন্দর কিছু অপেক্ষা করছে। জীবন কখনো একই রকম থাকে না। আজ যদি কষ্টে থাকেন,...Read more

0 0 Reacts 0 View 36,179 Comment 0

সবকিছুই কি নিয়তের ওপর নির্ভর করে?

সবকিছুই কি নিয়তের ওপর নির্ভর করে?

সবকিছুই নিয়তের ওপর নির্ভর করে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ❝সমস্ত কাজই নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য সে-ই...Read more

0 0 Reacts 0 View 62,576 Comment 0

সবচেয়ে মূল্যবান উপহার কী জানো?

সবচেয়ে মূল্যবান উপহার কী জানো?

দোয়া! এমন একটি উপহার, যার কোনো দাম নেই, অথচ যার মূল্য পৃথিবীর সব সম্পদের চেয়েও বেশি। মানুষ তোমাকে টাকা দিতে...Read more

0 0 Reacts 0 View 20,162 Comment 0

নিয়ত না করে নামাজ পড়লে কি আদায় হবে?

ইমানের পর ইসলামের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আমল হল সালাত বা নামাজ। নামাজ ইসলামের প্রাণ। মুমিন এবং কাফেরের মাঝে বড় পার্থক্য হল...Read more

0 0 Reacts 14 View 10,269 Comment 0

কপালে টিপ পরা ইসলামে হারাম কেন?

কপালে টিপ পরা ইসলামে হারাম হওয়ার কারন গুলো হল। হযরত ইবরাহীম (আঃ) কে যখন আগুনে পুড়িয়ে মারার জন্য নমরুদ ৮ মাইল...Read more

0 0 Reacts 1 View 11,301 Comment 0

ঈদুল আজহার গুরুত্বপূর্ণ আমল ও ইবাদতসমূহ কি?

ঈদুল আজহার প্রধান ও শ্রেষ্ঠ ইবাদত হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা। এছাড়াও ঈদের দিনের মূল ইবাদতের মধ্যে রয়েছে...Read more

0 0 Reacts 0 View 22,023 Comment 0

নফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ৯টি কৌশল কি?

নফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ৯টি কৌশল হল। ১. ফজরের পরে না ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ২. অপ্রয়োজনীয় কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। ৩. সকাল সন্ধ্যায়...Read more

0 0 Reacts 1 View 67,441 Comment 0

কেন আল্লাহর উপর ভরসা করবেন?

কেন আল্লাহর উপর ভরসা করবেন?

কখনো কখনো আল্লাহ সব দরজা–জানালা বন্ধ করে দেন, কারণ বাইরে ঝড় বইছে। কখনো কখনো আল্লাহ আপনাকে নদীতে নিক্ষেপ করেন, কারণ...Read more

0 0 Reacts 0 View 26,117 Comment 0