যে গ্রহাণুটি ডাইনোসরদের বিলুপ্ত করে দিয়েছিল। সেটিই কি পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম সুনামিও সৃষ্টি করেছিল? ৬৬ মিলিয়ন বছর আগে যখন গ্রহাণুটি পৃথিবীতে আঘাত হানে, তখন এটি শুধু ডাইনোসর যুগেরই অবসান ঘটায়নি—সমুদ্রে এক বৈশ্বিক বিপর্যয় ডেকে এনেছিল। আঘাত হানার মাত্র ২.৫ মিনিট পরেই, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে ২০২২ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায় যে, নিক্ষিপ্ত শিলা এবং বাষ্পের পর্দার কারণে আঘাত হানার স্থান থেকে ২.৮ মাইল উঁচু জলের একটি দেয়াল বিস্ফোরিত হয়ে বাইরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সেই বিশাল ঢেউ ছিল কেবল সূচনা পর্ব। ১০ মিনিট পরে, প্রায় ১ মাইল (১.৫ কিমি) উঁচু একটি অবিচ্ছিন্ন, বলয়াকার সুনামি তৈরি হয়, যা একটি বৈশ্বিক সতর্কঘণ্টার মতো আঘাত হানার স্থান থেকে দ্রুত গতিতে দূরে সরে যেতে থাকে। প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই এটি উত্তর আটলান্টিক এবং প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশ করে; ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে, এই ঢেউগুলো সারা বিশ্বের উপকূলরেখায় পৌঁছে যায়। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় এবং এনওএএ (NOAA)-এর বিজ্ঞানীদের মডেলিং অনুসারে, এই সুনামিটি ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরের বিপর্যয়ের চেয়ে ৩০,০০০ গুণ বেশি শক্তি নির্গত করেছিল—যা এটিকে পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী সুনামিতে পরিণত করেছে। এই ঢেউগুলো সমুদ্রের তলদেশকে ক্ষয় করে দিয়েছিল, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রকে নতুন রূপ দিয়েছিল এবং এমন চিহ্ন রেখে গিয়েছিল যা আমরা আজও সমুদ্রের তলানিতে শনাক্ত করতে পারি। গ্রহাণুটি শুধু স্থলভাগের জীবনকেই নতুন করে লেখেনি! এটি সমুদ্রেরও নতুন রূপরেখা তৈরি করেছিল।
Bangla Facts
Public . 24-Mar-2026ডাইনোসরদের বিলুপ্ত হওয়ার রহস্য!