পিঁপড়াদের নিজস্ব ম্যাপ ও তার পেছনের রহস্য নিচে তুলে ধরা হল। রাস্তায় চলার সময় কত শত পিঁপড়েকে আমরা পায়ের নিচে পিষে চলে যাই, তার কোনো হিসাব নেই। আমাদের চোখে এরা এতটাই নগণ্য যে এদের অস্তিত্ব নিয়ে আমরা কখনো মাথা ঘামানোর প্রয়োজনই মনে করি না। কিন্তু বিজ্ঞান যখন এই অতি ক্ষুদ্র জীবটির লাইফ-মেকানিজম ল্যাবরেটরিতে নিয়ে পরীক্ষা করল, তখন বড় বড় বিজ্ঞানীদের চোখ কপালে উঠে গেল! একটি সাধারণ পিঁপড়ে তার নিজের শরীরের ওজনের চেয়ে প্রায় ৫০ গুণ বেশি ওজন মুখে করে বয়ে নিয়ে যেতে পারে। শুধু তা-ই নয়, এরা যখন দলবেঁধে চলে, তখন এদের সুশৃঙ্খল কাতার দেখলে মনে হবে কোনো দক্ষ মিলিটারির প্যারেড চলছে। কোনো জিপিএস নেই, ট্রাফিক পুলিশ নেই, সিগন্যাল নেই—তবুও ঘুটঘুটে অন্ধকারেও এরা কীভাবে একদম সোজা লাইনে পথ চিনে চলে? বিজ্ঞান বলছে, পিঁপড়ারা যখন পথ চলে, তখন তারা মাটি বা বাতাসে ‘ফেরোমোন’ (Pheromones) নামের এক ধরণের বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ ছিটিয়ে দিয়ে যায়। এটি মূলত তাদের নিজস্ব ‘গুগল ম্যাপ’ বা হাইওয়ে সাইন। পেছনের পিঁপড়েরা তাদের অ্যান্টেনা দিয়ে এই রাসায়নিকের ঘ্রাণ শুঁকে শুঁকে একদম নিখুঁত রাস্তায় গন্তব্যে পৌঁছে যায়। সবচেয়ে বড় বিস্ময় হলো এদের সামাজিক শৃঙ্খলা বা ‘সুপার-অর্গানিজম’ মেকানিজম। এদের সমাজে মানুষের চেয়েও নিখুঁত শ্রমবন্টন আছে। কে রানি পিঁপড়ের যত্ন নেবে, কার দায়িত্ব হবে বাইরে থেকে খাবার খুঁজে আনা, আর কারা সৈনিক হিসেবে ঘরের দরজায় পাহারা দেবে—সবকিছু একদম সুনির্দিষ্ট এবং কোড করা। কোনো বিশৃঙ্খলা নেই, কোনো মারামারি নেই! আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে, যখন আধুনিক বিজ্ঞানের জন্মও হয়নি, তখন মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের ‘সুরা আন-নামল’-এ (পিঁপড়া) মহান আল্লাহ তায়ালা এক অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ করেছেন। সুলাইমান (আ.)-এর বিশাল বাহিনী যখন আসছিল, তখন একটি ছোট্ট পিঁপড়ে তার পুরো বাহিনীকে ডেকে বলেছিল— হে পিঁপড়েরা! তোমরা জলদি তোমাদের গর্তে ঢুকে পড়ো, অন্যথায় সুলাইমান এবং তার বাহিনী তোমাদের অজান্তেই পিষে ফেলবে। একটু গভীরভাবে ভেবে দেখুন তো—এত ছোট একটা প্রাণীর মাথায় এত উন্নত সাংগঠনিক বুদ্ধি, দূর থেকে বিপদের আগাম সংকেত বা কম্পন বোঝার ক্ষমতা আর নিজের বাহিনীকে বাঁচানোর এই লিডারশিপ কে দিল? কে এই চোখ-কানহীন ক্ষুদ্র জীবদের মগজে কোটি কোটি বছর আগে থেকেই এমন নিখুঁত শৃঙ্খলা আর শক্তির কোড সেট করে দিয়েছেন? পায়ের নিচের ছোট্ট পিঁপড়ে আমাদের মনে করিয়ে দেয়—তিনিই ‘আল-মুদাব্বির’ (যিনি পুরো মহাবিশ্বের সমস্ত বিষয়ের সুনিপুণ তদারকি ও পরিকল্পনা করেন)। আমরা যখন নিজেদের জীবন নিয়ে হতাশ হয়ে পড়ি, ভাবি আমাদের দেখার কেউ নেই, আমাদের ভবিষ্যৎ কী হবে—তখন মাটির দিকে তাকিয়ে এই পিঁপড়েদের দেখা উচিত। সামান্য একটা পিঁপড়েকেও যিনি নিখুঁত একটা সমাজ দিয়েছেন, তার রিযিকের ব্যবস্থা করেছেন এবং তাকে বাঁচানোর জন্য মগজে আগাম সংকেত দিয়েছেন— তিনি আপনার আর আমার মতো আশরাফুল মাখলুকাতকে কীভাবে ভুলে যেতে পারেন? আমাদের জীবনের সমস্ত ঝড়-ঝাপটা আর সমস্যার পেছনেও তাঁর এক সুনিপুণ পরিকল্পনা রয়েছে, যার শেষটা সবসময় কল্যাণেরই হয়। দয়াময় রবের এমন অসীম দয়া, আসমাউল হুসনার জীবন্ত প্রভাব আর তাঁর কুদরত সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে চান? জীবনের প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র স্পন্দনে রবের উপস্থিতি নতুন করে আবিষ্কার করতে এবং আসমাউল হুসনার আলোয় নিজের বিশ্বাসের ভিতকে মজবুত করতে সংগ্রহ করতে পারেন সমকালীন প্রকাশনের আলোড়ন সৃষ্টিকারী সিরিজ ‘তিনিই আমার রব’।
Bangla Facts
Public . 19-Jun-2026পিঁপড়াদের নিজস্ব ম্যাপ ও তার পেছনের রহস্য!