জীবনটা একটা সারপ্রাইজ-বক্স। যতদিন বেঁচে থাকবেন, প্রতিদিন, প্রতিমাস কিংবা প্রতিবছর নতুন নতুন সারপ্রাইজে সারপ্রাইজড হবেন। হ্যাঁ, হবেনই! নিজেকে এমন সারপ্রাইজড হতে দেখার জন্য বেশি কিছু নয়, কেবল বেঁচে থাকতে হয়। এর জন্য আর কিছুই লাগে না। সাফল্য, ব্যর্থতা, প্রাপ্তি, অপ্রাপ্তি কিছুই এখানে বিবেচ্য বিষয় নয়। আমরা যা দেখি, যা ভাবি, তার কতটুকুই-বা সত্য? অনেক উঁচু পর্বতের চূড়ায় বসে আছে যারা, নিচে নামবার আকুতিতে ওরা কেমন ছটফট করে, তার খোঁজ আমরা কে-ইবা রাখি! মানুষ দুঃখ পেলে কেবল কাঁদেই না, হাসেও। হাসি বা কান্না মানুষের সুখের খোঁজ দেয় না সবসময়। গত বছর ঠিক এই সময়টাতে অনেকেই বেঁচে ছিলেন, যাঁরা আজ বেঁচে নেই। আগামী বছর ঠিক এই সময়টাতে অনেকেই থাকবেন না, যাঁরা আজকের দিনটায় বেঁচে আছেন। কি জোয়ান, কি বুড়ো, কি ছেলে, কি মেয়ে। বছর ঘোরে, সাথে ঘোরে জীবনমৃত্যু। নিজের প্রতি ও অন্যের প্রতি দয়ালু হোন। কে জানে, এ সুযোগ হয়তো আর পাবেনই না! যার মধ্যে মানবিকতা নেই, সে তো মানুষের মধ্যেই পড়ে না! মানুষের অবয়বে বাঁচে তো অনেকেই, মানুষ হয়ে বাঁচে ক'জন? গত বছর এই সময়টাতে হতাশায় ভেঙে-পড়া অনেকেই আজকের দিনটায় সফলতায় ভাসছেন। আজকের এই দিনে হতাশায় ডুবে-থাকা অনেকেই আগামীর এই দিনটায় হয়তো খুশির জোয়ারে ভাসবেন। আজকের দিনটার পরিস্থিতিই শেষকথা নয়। আরও হিসেব বাকি আছে। তা দেখতে চাইলে বাঁচতে হবে। প্রকৃতির প্রতিশোধ ও প্রকৃতির বিচার, দুই-ই বড়ো নির্মোহ, নির্দয়, নিশ্চিত। আপনাকে অহেতুক কষ্ট দিয়ে উল্লাস করছে যে বা যারা, ওদের জীবনে কী অপেক্ষা করে আছে, তা দেখার জন্য হলেও চুপচাপ বেঁচে থাকুন। আমার অভিজ্ঞতা বলে, সবকিছুই ফেরত আসে। কারও পেছনে লেগে থেকে, কারও ক্ষতি করে এ পৃথিবীতে কেউই জীবনে তেমন কিছু করতে পারেনি। হ্যাঁ, নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি এসব। স্রষ্টার দেওয়া সবচেয়ে বড়ো উপহার হলো আয়ু। জীবনের সবচেয়ে বড়ো সাফল্য হলো সবকিছুর পরেও দিব্যি বেঁচে থাকা। বেঁচে থাকার চাইতে বড়ো জয় আর হয় না। আপনার আত্মিক কিংবা শারীরিক মৃত্যু অনেক মানুষকেই জিতিয়ে দেয়। আপনাকে কাঁদতে দেখলে অনেকেই খুশি হয়ে ওঠে। ওদের অস্বস্তিতে রাখতে হলেও দুঃখ আর কান্না গিলে দাঁত বের করে হাসুন। যতক্ষণ বেঁচে আছেন, প্রতিবছর, প্রতিদিন এবং প্রতিক্ষণই উদ্যাপন করুন, উপভোগ করুন আশপাশের যা-কিছুই ঘটে, গ্রহণ করতে শিখুন যা-কিছুই আছে। আগামীকাল আপনি বেঁচে থাকবেন, তার গ্যারান্টি দিতে পারছেন না যখন, তখন আগামীকালের জন্য কোনও কাজ কিংবা আনন্দের কোনও কিছু জমিয়ে রাখাটা নিরর্থক। কারণ আগামীকালের কোনও গ্যারান্টি নেই। একটাই সাধের জীবন, একটাই জন্ম। দুনিয়ায় দ্বিতীয় বার মানুষ হয়ে জন্মাবেন, কিংবা আদৌ জন্মাবেন কি না, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। দ্বিতীয় জন্ম হয় মৃত্যুর পরে নয়, আগেই। আপনি এখন যেরকমভাবে বেঁচে আছেন, সেটির ধরন বদলে ফেলতে পারার নামই দ্বিতীয় বার জন্ম নেওয়া। আরেক বার বাঁচার জন্য যুদ্ধ করুন, নিজের সাথেই। জিতে গেলে বাঁচতে দারুণ লাগবে, মিলিয়ে নেবেন। আপনার আশেপাশে আজকের বছরটায় যাঁরা আছেন, আগামী বছরে তাঁদের অনেকের সাথেই যোগাযোগ, সম্পর্ক কিংবা দেখাসাক্ষাৎ কোনওটাই না-ও থাকতে পারে। জীবন ও প্রয়োজন আপনাকে ঠিক কোথায় নিয়ে রেখে আসে, তার কোনও ঠিক নেই। এমনকি মৃত্যুও দূরত্ব তৈরি করে দিতে পারে। সাথে-থাকা সবার যত্ন নিন, সামনে যা আসে, মন চাইলে তার সবকিছুই উপভোগ করুন। হ্যাঁ, যা-কিছুই করুন না কেন, তা করবেন কারও কণামাত্রও ক্ষতি না করে। অকারণে হলেও হাসুন, অপ্রয়োজনে হলেও ভালোবাসুন। কারও-না-কারও খুশির কারণ হয়ে উঠুন। আজকের এই মুহূর্তটিই হয়তো আপনার শেষ মুহূর্ত! কে বলতে পারে!
Nelima
Public . 28-Sep-2025জীবন আসলে কি?