বিয়েতে মেয়ের বাড়িতে বরযাত্রী নিয়ে গেলাম ২৪৬ জন। মেয়ের বাবা আড়ালে ডেকে বললেন... বাবা, তোমাদের না ১০০ বরযাত্রী আনার কথা ছিলো? বললাম বাবা আমি পরিবারের ছোট ছেলে। সবার শখ বিয়েতে আসবে।কিকরে না বলি বলুন তো? " " সে নাহয় ঠিক আছে।আগে থেকে বললে ভালো হতো। এখন ওদেরকে একটু বলে দাও খাবারে সামান্য দেরী হবে। সবার আয়োজন করে একসাথে খেতে দিবো। বাবা আপনি টেনশন করবেন না। আমি বলে দিবো। বিয়েতে আত্মীয়-স্বজন বন্ধুবান্ধব কাউকে আনা বাদ রাখিনি। সবাই তো কাছের মানুষ, কাকে রেখে কাকে বাদ দেই! বিয়ে হয়ে গেলো। বছর ফিরতে স্ত্রীর ডেলিভারি।হসপিটালে আমার রুদ্ধশ্বাস! এ নেগেটিভ রক্তের অভাব। আত্নীয়-স্বজন অনেকের সাথে রক্ত মিলে যায়, তারা বাহানা দিয়ে এড়িয়ে গেলো। রিক্সায় উঠে রওনা হলাম কলেজ গুলোর উদ্দেশ্য।সেখানে রক্ত জোগাড় করার সেচ্চাসেবী কমিটির ছেলেমেয়েরা থাকে। ওদের বললে যদি কোনো উপায় হয়! আমার ছটফটানি দেখে রিক্সাওয়ালা মামা বললো " মামা এতো ঘাবড়াইছেন কেন? কার কি হইছে? রক্ত লাগবে। জোগাড় হয়নি, স্ত্রীর ডেলিভারি। কি রক্ত লাগবো? এ নেগেটিভ! মামা আমার তো এই রক্ত। আমার কাছে রক্ত নিবেন? শেষমেশ রিকশাওয়ালা মামার রক্ত দিয়েই স্ত্রীর ডে"লিভা"রি হলো।মাথায় হাত রেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবলাম, বিয়েতে গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে কাদের নিয়ে গিয়ে খাওয়ালাম? কাদের আপন ভাবতাম? এই বিপদের দিনে আমি একা! কেউ নাই। রিকশাওয়ালা মামার নাম্বার নিয়ে রাখলাম। বাড়িতে ভালোমন্দ রান্না হলে তাকে ডেকে খাওয়াই। সে আপনজন।
Love Story
Public . 18-Jun-2023আপনজন চিনিবার উপায়