দেবতা খুমের ইতিবৃত্ত।

দেবতা খুমের ইতিবৃত্ত।

দেবতা খুমের ইতিবৃত্ত। আগে জানি খুম কি? খুম একটি মারমা শব্দ যার অর্থ হচ্ছে জলপ্রপাত। খুম গুলো হয়ে থাকে মূলত উজানে। উজান থেকে ভাটির দিকে পাথরের আঁকে বাঁকে এই খেলা চলে বিরামহীন। গড়ে তুলে এক স্বচ্ছ জলের চলমান ধারা যা এসে স্থির হয় খুমে। স্থিরতা বজায় রাখে উপরি ভাগে কিন্তু খুমের তলদেশে চলে অস্থিরতার স্রোত। পাহাড় পাথর আর জলের এই চক্র নিয়েই পাথুরে সভ্যতা। বান্দরবান কে বলা হয় খুমের স্বর্গরাজ্য। আর এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দেবতাখুম যার গভীরতা ৫০-৭০ ফুট। ধারনা করা হয় এ খুমে কোনো এক সময়ে ২ টি বড় বড় মাছ দেখা যায়। অনেকেই দেখেছে। মাছ দুটোরই ফুলকাতে স্বর্নের মত দুল ছিলো। কিন্তু এদের কেওই ধরতে পারে না। একবার স্থানীয় ২জন ছেলে পুরো খুমে বিষ ছিটিয়ে দেয়। তখন খুমের সব মাছ মারা গেলেও সে ২ টা মাছ দেখা যায় নি। তাই সবাই ভাবে তারা দেবতা। সে থেকে এর নাম দেবতাখুম। দেবতাখুমের সৌন্দর্য বড়ই রহস্যময়। ঝর্ণা, ট্রেকিং, ভেলায় ভাসা সব মিলে একটা পারফেক্ট প্যাকেজ পাওয়া যাবে এখানে। দু পাশে আকাশচুম্বী পাথুরে পাহাড় আর মাঝখান দিয়ে আকাঁবাকা সরু পথ। এ পথটা পাড়ি দিতে হয় নিজেরা ভেলা ভাসিয়ে। সম্পুর্ন নেটওয়ার্কের বাইরে দেবতাখুমে শুনশান নিস্তব্ধতা আর নির্জনতা। শব্দ বলতে আছে শুধু ওই ভেলা আর নিজেদের কথার প্রতিধ্বনি। আর ভেলা ভাসিয়ে যতই ভেতরে যাবেন, ততোই আবিষ্কৃত হবে প্রকৃতির ভয়ংকর সৌন্দর্য। এখানে এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে সরাসরি পৌঁছে না সূর্যের আলো। এমনকি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও পা পরে নি। প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে উপভোগ করতে চাইলে আর প্রকৃতিতে মিশে যেতে চাইলে খুব কম সময়ের মধ্যে পারফেক্ট একটা ট্যুর হতে পারে দেবতাখুমে। তবে বর্ষার দেবতাখুম আর শীতের দেবতাখুম পুরাই ভিন্ন। বর্ষায় পানিতে টইটম্বুর থাকলেও শীতে পানি থাকে স্বচ্ছ। তবে সাতার জানা না থাকলে লাইফ জ্যাকেট ছাড়া পানিতে না নামাই ভালো । দেবতা খুমের এই সারিতে একটানা অনেক গুলো খুম রয়েছে। শুরুর দুই তিনটা খুমে বর্তমানে অনেক পর্যটকের যাতায়াত থাকলেও সময় সুযোগের কারনে শেষরে দিকে কারো যাওয়া হয়না। এবং একদিনে সব গুলো খুম শেষ করাও সম্ভব না। তাই অন্তত একটা রাত আপনাকে এই পাহাড়ি বন্য পরিবেশে থাকতে হবে। যা আপনার ভ্রমন কে আর কয়েক হাজার গুন রোমাঞ্চকর করে তুলবে। ভেতরের ২/১ টি জায়গায় ক্যাম্পিং ও করা যায়। এবং তা আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে খুব সতর্ক ভাবে। কারন চাইলেই আপনি যে কোন জায়গায় ক্যাম্পিং করতে পারবেন না। ভুল যায়গায় ভুল ভাবে ক্যাম্পিং হিতে বিপরীত হতে পারে। তবে ক্যাম্পিং করার প্ল্যান করে গেলে অবশ্যই এখান থেকেই সব সরঞ্জাম সাথে বহন করতে হবে। এবং রান্না করার আসবাবপত্র ও যা খাবেন সেগুলোও সাথে নিতে হবে। যারা খুব এডভেঞ্চার পছন্দ করেন তারা দুই দিনের প্ল্যান করে দেবতা খুম ঘুরে আসতে পারেন। তবে যাওয়ার আগে অবশ্যই সেখানকার তৎকালীন অবস্থার ভালো করে খোঁজ খবর নিয়ে এবং পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে যাবেন। আর যেখানেই যাবেন সব সময় পরিবেশ কে সুন্দর রাখার চেষ্টা করবেন। অপচনশীল কিছু ফেলে আসবেন না।

0 0 Reacts 0 View 95,472 Comment 0
Profile Photo

বালিয়াটি প্রাসাদ ইতিহাস।

বালিয়াটি প্রাসাদ ইতিহাস।

বালিয়াটি প্রাসাদ এর সম্মুখ ভাগ। সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ। মোট সাতটি স্থাপনা নিয়ে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত। এই বালিয়াটি জমিদার বাড়ি বা প্রাসাদটির সবগুলো...Read more

0 0 Reacts 0 View 48,584 Comment 0

সিজন শেষে টাঙ্গুয়ার হাওরের হাউজবোটগুলার কি করা হয়?

সিজন শেষে টাঙ্গুয়ার হাওরের হাউজবোটগুলার কি করা হয়?

বোট নাই গাঙ্গে উইঠা গেছে চাঙ্গে...! অনেকেরই প্রশ্ন থাকে ৪ মাসের সিজন শেষে টাঙ্গুয়ার হাওরের হাউজবোটগুলার কি করা হয়। সাধারণত প্রত্যেকটা...Read more

0 0 Reacts 0 View 44,501 Comment 0

রোজ গার্ডেন বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন!

রোজ গার্ডেন বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন!

রোজ গার্ডেন প্রাসাদ যা সংক্ষেপে রোজ গার্ডেন নামে সমধিক পরিচিত, বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক প্রাচীন ভবন। এটি বাংলাদেশের রাজধানী...Read more

0 0 Reacts 0 View 61,190 Comment 0

পুরান ঢাকার লালবাগে অবস্থিত লালবাগ কেল্লা!

পুরান ঢাকার লালবাগে অবস্থিত লালবাগ কেল্লা!

পুরান ঢাকার লালবাগে অবস্থিত লালবাগ কেল্লাকে সর্বপ্রথম ডাকা হতো আওরঙ্গবাদ দুর্গ হিসেবে। ১৬৭৮ সালে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র প্রিন্স মুহাম্মদ...Read more

0 0 Reacts 0 View 104,164 Comment 0

বসন্তে বাংলার প্রকৃতি

বসন্তে বাংলার প্রকৃতি

বসন্তের আগমনে প্রকৃতি তার জীর্ণতা মুছতে শুরু করে। শীতের পাতাঝরা বৃক্ষগুলো এত দিন যেন বিগত যৌবনা বৃদ্ধার মতো দাঁড়িয়ে ছিল...Read more

0 0 Reacts 1 View 76,344 Comment 0

রাইক্ষিয়াং লেক বান্দরবান বাংলাদেশ!

রাইক্ষিয়াং লেক বান্দরবান বাংলাদেশ!

রাইক্ষিয়াং লেক বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় অবস্থিত একটি সুন্দর ও তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত হ্রদ। এটি রাইক্ষিয়াং পাহাড়ের গহীনে অবস্থান...Read more

0 0 Reacts 0 View 101,964 Comment 0

এশিয়ান হাইওয়ে

এশিয়ান হাইওয়ে

এশিয়ান হাইওয়ে, পঞ্চগড়, বাংলাদেশ। বাংলাদেশে থেকে এই রোড ভারতে প্রবেশ করে নেপাল ও ভুটানের সাথে বাংলাদেশকে সংযুক্ত করেছে। আর এই ছবিটা তোলা...Read more

0 0 Reacts 1 View 91,998 Comment 0

নিঝুম দ্বীপে ক্যাম্পিং

নিঝুম দ্বীপে ক্যাম্পিং

নিঝুম দ্বীপে ক্যাম্পিং। এক কথায় সেরা সময় কাটাবেন আপনি। এলাকা যেমন সুন্দর প্রান্তিক মানুষ গুলো তেমন সহজ সরল। আর বনের মধ্যে...Read more

0 0 Reacts 1 View 96,061 Comment 0

পাহাড়ের জুম ঘরের গল্প।

পাহাড়ের জুম ঘরের গল্প।

পাহাড়ের কোলে ঘেরা সবুজে ভরা এই পথটা প্রতিদিনই নতুন গল্প বলে। সকালের কুয়াশা আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাচ্ছে, দূরের পাহাড় যেন...Read more

0 0 Reacts 0 View 49,202 Comment 0

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক লেক, রাইক্ষং লেক।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক লেক, রাইক্ষং লেক।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক লেক। রাইক্ষং লেক, রাঙামাটি। পুকুরপাড়া বা রাইক্ষ্যং লেক। আমাদের পার্বত্য এলাকার সত্যিই এক রহস্য। এতো উপরে এতোবড়...Read more

0 0 Reacts 0 View 95,897 Comment 0