বিল গেটসের এতো এতো বিলিয়ন ডলার অথচ তার বউ থাকে না। হৃত্বিক রোশানের সিক্স প্যাক আছে, ধনী নায়ক সে। তারও বউ থাকে না। বউ থাকে আমাদের দেশের বস্তির ছেলে রুবেলের, মদখোর কলিমের, গাজাখোর মন্টু, ঝন্টুদের। এমনই একটা লেখা দেখছিলাম গতকাল একটা পেইজে। তো এটা সম্পর্কে একটু বিস্তারিত লেখালেখি করতে ইচ্ছে করলো। আমি বলছিনা যিনি লিখেছেন তিনি ভুল কিছু লিখেছেন। কিন্তু আমাদের দেশের এসমস্ত দায়িত্বহীন ছেলেপেলেদের বউরা কেন মারপিট খেয়েও মুখ বুজে দিব্যি সংসার করে যাচ্ছে সেটাও তো আপনার জানা উচিত। তো এবার আসি বস্তির ছেলে রুবেলের বউয়ের প্রসঙ্গে। ধরেন বস্তির ছেলে রুবেল তারই বস্তির এক মেয়ে জরিনাকে বিয়ে করলো। জরিনা বেশিদূর পড়াশোনা করে নাই। মায়ের সাথে হয়তো এ বাড়ি ও বাড়ি কাজ করে বেড়াতো সে। তো বিয়ের পর নতুন নতুন প্রেমের সময় রুবেল বলল, তোমার আর মাইনষের বাড়ি কাম করতে যাওন লাগতো না। তুমি ঘরে রান্ধো বারো আমি বাইরে কামটাম করুম। কয়েক মাস পর জরিনা খেয়াল করলো রুবেল তার পাড়ার বাজে বন্ধুদের সাথে মিশে খারাপ হয়ে গেছে। রাত করে ঘরে ফিরে। মদ গাজা খায় আবার ঘরে এসে জরিনাকে মারধোরও করে। তো জরিনা কয়েকদিন সহ্য করে নিলো সবটা। কিন্তু একটা সময় দেখলো সহ্যের সীমা অতিক্রম হয়ে গেছে। এখন আর এর সাথে থাকা সম্ভব না। তো এরপর সে কী করলো! সে চলে গেল গেল নিজের মায়ের কাছে। মা আবার নতুন কোনো এক বড়লোক সাহেবের বাসায় কাজ ঠিক করে দিল তাকে। কয়েকদিন কাজটাজ করার পর দেখলো, বাড়িওয়ালাটা বেশি সুবিধার না। সুযোগ পাইলেই গায়ে হাত দেয়, খারাপ নজরে তাকায়। অল্প বয়সী মেয়েদের নিরাপত্তা নাই। তার উপর যদি হয় গরিব অসহায় অশিক্ষিত মেয়ে। তাইলে তার তো কোনো ইজ্জতও নাই। তাকে তো সস্তা ভেবে তার সাথে যা খুশি করা যায়। কোনো মেয়ে গরিব মানেই সে এভেইলেভেল এসমস্ত চিন্তাভাবনা করার মতো মানুষ আমাদের আশেপাশে অভাব নাই। আজকাল কোনো মেয়েরই কোথাও নিরাপত্তা নাই। মেয়েরা নিজের বাপ, ভাইয়ের কাছেও নিরাপদ না। বিভিন্ন ধর্ষণ ঘটনার নিউজ দেখলে বুঝতে পারবেন যে মেয়েরা ঠিক কতটা অসহায় আজকাল। তো জরিনা ঠিক করলো আর কাজে যাবে না। মায়ের ঘাড়ে বসেও খেতে পারছে না। মা দিনরাত খোঁটা দেয়। বিয়ে হয়ে গেছে এখন কেন সে তাকে খাওয়াবে!! তারপর জরিনা কী করলো? সে বাধ্য হয়ে তার মাতাল স্বামী রুবেলের কাছেই ফিরে গেল। রুবেল দিন আনে দিন খায়৷ টুকটাক কাজ করে। আবার মাঝেমধ্যে মদ গাজা খেয়ে এখানে সেখানে পড়ে থাকে। ঘরে ফিরে ঝগড়া লাগলেই জরিনাকে মারধর করে। জরিনাও তার কপালের লিখনকে মেনে নিয়ে রুবেলের সংসারেই পড়ে রইলো। কী করার আছে তার? সে না জানে পড়ালেখা না তার চাকরি করার যোগ্যতা আছে না বাপের বাড়ি গেলে ঠাই পাবে। কোনোটাই না। আবার ধরেন মদখোর কলিম, ঝন্টু, মন্টুরা এক বউ নিয়া সন্তুষ্ট না। তাদের আরও একখানা কইরা বউ দরকার। বিয়ে করে নিয়ে আসার পর প্রথম পক্ষ রেগে আগুন হলেও পরে যখন দেখে তার যাওয়ার কোনো জায়গা নাই তখন সে বাধ্য হয়ে সতিনের ঘর করে। এগুলা অহরহ ঘটতেছে আমাদের বাংলাদেশে। বস্তিতে গিয়ে একদিন খোঁজ নিয়েন। এমন অনেক গল্প পাইবেন। একজন শিক্ষিত স্বাবলম্বী মেয়ে কখনো অন্যায় অত্যাচার সহ্য করবে না। তাকে আপনি কারণে অকারণে খোঁটা দিয়ে কথা শোনাতে পারবেন না। তাকে রেখে ফষ্টিনষ্টি করে বেড়ালে সে আপনাকে টাটা বাই বাই করতে করতে চলে যাবে। আপনি তার গায়ে হাত তুললে সে রুখে দাঁড়াবে। কিন্তু পড়াশোনা না জানা জরিনা, সকিনারা কখনও এই সাহসটা দেখাতে পারবে না। এই সাহস দেখানোর আগে নিজের পায়ের তলার জমিটা শক্ত থাকতে হয়। এখন আসা যাক বিল গেটস, জাস্টিন ট্রুডো আর হৃত্বিক রোশানের প্রসঙ্গে। এদের বউরা নিজের স্বামীর উপর নির্ভরশীল না। এদের প্রত্যেকেরই আলাদা পরিচয় আছে কিংবা তারা চাইলেই নিজের দায়িত্ব নিজে নিতে পারে। সো তারা যদি তাদের স্বামীর সাথে অসুখী থাকে তাহলে কেন শুধু শুধু সংসারে পড়ে থেকে অশান্তি ভোগ করবে? এই জন্যই আমি সবসময় বলি....Dear girls, earn your own money. Be confident & take your own responsibility.
Nelima
Public . 15-Aug-2023একজন শিক্ষিত স্বাবলম্বী মেয়ে কখনো অন্যায় অত্যাচার সহ্য করবে না!