মেনে নেওয়া আর মানিয়ে নেওয়ার জলছবি...... সংসার মানেই ফিল্মি ভালোবাসা হয় না। এটা একটা মেয়ে বিয়ের অনেক পরে বুঝে। সে স্বপ্নে কিংবা কল্পনায় শাহরূখ খানের মতো যে রোমান্স দেখতো, ধীরে ধীরে বুঝতে পারে ওটা কেবলই একটা ফেয়ারিটেল গল্প। বেশির ভাগ পুরুষই তার বউকে ততোটা সময় দেয় না যতটা একজন সেনসেটিভ মেয়ে চায়। বেশীর ভাগ মেয়েরাই এটা এ্যাডজাস্ট করে নেয় কিন্তু ঝামেলা বাঁধে কিছু মেয়ের ক্ষেত্রে, যে মেয়েগুলো বইয়ের তাকে ভালোবাসা লুকিয়ে রেখেছিল, গোপনে 'আশিকী'র ক্যাসেট/ সিডি গিফ্ট করেছিল, তাদের নিয়ে, যে মেয়েগুলো বৃষ্টি এলেই ভিজতে ছাদে দৌড় দিত, যে মেয়েগুলো এক মুঠো লাল কাঁচের চুড়ি কিংবা কয়টা বেলি ফুলের মালায় খুশি হয় তাদের নিয়ে। এই টাইপ মেয়েগুলো যখন বউ হয়ে আসে তখন সে ভিতরে ভিতরে তার একটা দুনিয়া সাজিয়ে রাখে। তার বেলকোনি জুড়ে থাকে কামিনী ফুলের সুবাস। তার কল্পনার রাজ্য জুড়ে থাকে রূপকথার ঘুম ঘর। আস্তে আস্তে মেয়েগুলো বুঝতে পারে এটা একটা যুদ্ধ ক্ষেত্র এখানে কোনো রূপকথা লুকানো নেই,আছে শুধুই দায়িত্বের বোঝা। এখানে কোনো ছোট ছোট ভালো লাগার দাম নেই, কেবলই বিষাদ বিকেল। মেয়েগুলো নিজেকে গুটিয়ে নেয় নিজের স্বপ্ন ও কল্পনার জগত কে মাটি চাপা দিয়ে। রোজ বৃষ্টি হলে শুকনো কাপড়গুলো ছাদ থেকে আনতে গিয়ে মন খারাপ হয়। এই বুঝি কেউ পিছন থেকে চুপি চুপিএসে দু চোখ চেপে ধরে চমকে দেবে। পারফিউম এর গন্ধ টা ই বলে দেবে সব কিছু। কিন্তু সে'সব কিছু ই হয়না। একটা নাটক দেখে ইমোশনাল হয়ে যায় কিংবা ,'আশিকী' র গান শুনে কান্না করে লুকিয়ে লুকিয়ে। এখনও তার ভিতরে একটা কিশোরী বাস করে কিন্তু সে কিশোরীটাকে সে আর বাস্তবে আনে না। নিজের আলাদা জগতে একটা দেয়াল টেনে, বিষন্ন চোখে কেবল আকাশ দেখে। তাদেরই ভালোবাসার কমতিতে মুড সুয়িং হয়। সময় আর পারিপার্শ্বিকতায় নিজেকে বদলে ফেলার ব্যার্থ চেষ্টা করে। কিন্তু বদলাতে পারেনা তার কিশোরী মন। কখনো মেনে নেওয়া, কখনো মানিয়ে নেওয়ার অভিনয় করে কাটিয়ে দেয় সারাটা জীবন।
Nelima
Public . 13-May-2024কখনো কখনো মেয়েদের কেন তা সংসারে মেনে নেওয়া আর মানিয়ে নিতে হয়?